Breaking News

বুড়ী ধরলার ভাঙ্গনে ঘুম উড়েছে গীতালদহের মানুষের ।

বুড়ী ধরলার নদী ভাংগনের একটি দৃশ্য ।নদী গর্ভে তলিয়ে গেছে স্কুল এর একাংশ । 
মনসুর হাবিবুল্লাহ কোচবিহারঃ নদীটির নাম বুড়ি ধরলা । এই নামেই আতংক তৈরী করছে গীতালদহের বিস্তির্ন জনপদের মানুষের।বিনিদ্র রাত্রি কাটছে জাহের আলী, সার্জিনা বিবি, জাইদুল হক দের । এবার বুঝি আমার বাড়ির পালা । এই ভয়েই সিটিয়ে আছে অধিকাংশ মানুষ ।যাদের বাড়ি নদী গর্ভে বিলিন হয়েছে তারা পাড়ি দিয়েছে ভিন রাজ্যের দিকে ।বুড়ি ধরলা  নদীর  ভাঙ্গনে উদ্বাস্তু হয়েছে প্রায়  হাজার দুয়েক মানুষ । ভিটে মাটি ছেড়ে ভিন রাজ্যে তাদের এখন বসবাস।ভোরাম পয়েস্থি পুর্ব ও পশ্চিম দুটি গ্রাম নিশ্চিহ্ন হওয়ার দিকে । পশ্চিম ভোরামের বরাইবাড়ি এলাকা প্রায় পুরোটাই নদী গর্ভে চলে গেছে । ফলে উদ্বাস্তু হওয়ার আশংকায় প্রায় সাত  হাজার বাসিন্দা ।   কিন্তু নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধে নির্বিকার প্রশাসন । নেতা , আমলাদের আশ্বাস কখনো মিলছে । সাড়া বলতে ওই টুকু । কিন্তু প্রায় প্রতিদিনই নদী গর্ভে চলে যাচ্ছে গ্রাম দুটির একটু একটু করে অংশ।


কোচবিহারের সিঙ্গিমারী নদী গিতালদহে বুড়ি ধরলা নামে পরিচিত । নদীটি মদনা কুড়া , ভারবান্ধা , ভোরাম পয়েস্থি হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে । প্রতি বছর বন্যায় ভয়ালরুপ ধারন করে ।নিম্ন গতিতে নদীটি প্রবল আকারে ভাংছে । আগে নদীর পশ্চিম পাড়ে প্রবল ভাঙ্গত । এখন ভাঙ্গছে পুর্ব পাড় । পুর্ব পাড়ের বরাইবাড়ি , ঘোষ পাড়া প্রায় পুরোটাই নদীর গ্রাসে চলে গেছে । এই দুই এলাকার প্রায় ৫০০ বাড়ি ঘড় নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে । এলাকার প্রাইমারি স্কুল টি সম্প্রতি নদীর তলে বিলীন হয় । এছাড়াও দুটি মসজিদ ও নদী ভাঙ্গনে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে । এলাকার বাসিন্দা রা জমি বাড়ি সব নদী গর্ভে হারিয়ে কেউ দিন মজুরি করছে কেউবা আবার কাজের খোজে দিল্লী বেঙ্গালুরু পাড়ি দিচ্ছে । এলাকার বাসিন্দা জাহের আলী বলেন “  আমার চার বিঘা জমি ছিল । এখন কিছুই নেই । গত বৃহস্পতি বার সন্ধ্যে বেলা চা খাওয়ার সময় হঠাৎ নদীর ধারের টিনের চাল ওয়ালা ঘড় টা নদীতে ভেঙ্গে পড়ল । এখন বউ বাচ্চা নিয়ে ভাই ইয়ের বাড়িতে আছি । সেখানে কত দিন থাকবো । তাই কাজের জন্য দিল্লী যেতে হবে ।“ শুধু জাহের আলী নয় এরকম প্রায় ৬০ টি বাড়ি গত দুমাসে নদী গর্ভে তলিয়ে গেছে । এখন তারা সবাই কাজের খোজে ভিন রাজ্যে পাড়ি দিয়েছে । স্থানীয় জাইদুল হক জানায় আগে তার বাড়ি বুড়ি ধরলার পশ্চিমে  বাদুর কুটিতে ছিল । সেখানে নদী ভাঙ্গলে পুর্ব দিকে বরাইবাড়িতে বাড়ি করে । এবার সেটিও ভেঙ্গে গেছে ।
নদী ভাঙ্গন এলাকায় আমি ।
 তাই দিন মজুরি করে দিন কাটছে । শীঘ্রওই সে বেঙ্গালুরু যাবে । এলাকার বাসিন্দা সার্জিনা বিবি জানান কখন বা তারা সন্তান সহ ধরলা নদীতেই ভেসে যায়। সরকার পুরো নিশ্চুপ । স্থানীয় বাসিন্দারা জানান “ যদি ইরিগেশন দপ্তর থেকে দুমাস আগেও কিছু টেপমোরারী ব্যবস্থা নিত তবু অনেকটা ভাঙ্গন রোধ করা যেত । কিন্তু ইরিগেশন দপ্তরের গাফিলতিতে এবার বন্যার পর বরাইবাড়ি ঘোশ পারা সহ বিস্তির্ন অঞ্চল নদী গর্ভে যাবে বলে আশংকা করছে । পুরোপুরি নদী বাধেই রক্ষা পেতে পারে প্রায় হাজার সাতেক মানুষ সহ দুটি গ্রাম । বেচে যেতে পারে তাদের জীবন জীবিকা । না হয় নদীর স্রোতের তালে তলিয়ে যাবে পুরো গিতালদহ । স্থানীয় বিডিও পার্থ চক্রবর্তী জানান “ গীতালদহের নদী ভাঙ্গন পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে প্রসাশন । নদী ভাঙ্গন সম্পর্কে রিপোর্ট উপরে পাঠানো হয়েছে । “ 





No comments