Breaking News

অনশনে সাবেক ভারতীয় ছিট মহলের বাসিন্দারা ।



সাবেক ভারতীয় ছিট মহলের বাসি দের বিভিন্ন দাবি ।,
কোচবিহারঃ কাটাতারের ওপারেরও কিছু ভুখন্ড ছিল । যেগুলি পড়শি দেশ দ্বারা বেষ্টিত ছিল । সেখানেও কিছু বাসিন্দা বাস করত । তারাও ভারতীয় ছিল । কিন্তু তারা মুল ভুখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন  কিছু না পাওয়া ভারতের বাসিন্দা ।তাদের ছিল না পরিচয় পত্র । ছিল না ভোটের কার্ড রেশন কার্ড না মিলত ভারতীয় হওয়ার ফলে প্রাপ্ত সরকারী সুযোগ সুবিধা ।  তারা ছিলেন  সাবেক ভারতীয় ছিট মহলের লোক । ২০১৫ সালে ৩১ শে জুলাই মধ্য রাতে নতুন সুর্য আবির্ভাব হয় । কিছু মানুষ ভিটে মাটি ছেড়ে চলে আসেন মুল ভারতীয়  ভুখন্ডে । শুধু ভারতীয় পরিচয়ে বাচবে এই আশা নিয়ে। বহু দিনের বঞ্চনা থেকে মুক্তি পাবে এই স্বপ্ন নিয়ে । কিন্তু বঞ্চনা হয়ত তাদের ললাট লিখনেই ছিল । আজ ও তারা কিছু না পাওয়ার দেশের বাসিন্দা হয়ে আছে । সরকার অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল কিন্তু প্রাপ্তির আসনে শুধু ভোটের ফটো আর আধার কার্ড আর সপ্তাহে অন্তে বিনা পয়সায় রেশন । আর টিনের চালা ঘরে অস্থায়ী বসতি । পুর্নবাসন যেন তাদের কাছে অলীক আশ্বাসেই দাড়িয়েছে ।

তাই এবার দাবী আদায়ের জন্য অনশনে বসেছে তারা । কিন্তু সরকারী শাসন দন্ডের আঘাতে আজ অনেকেই হাসপাতালে । তারা দাবি করেছিল অন্ন বস্ত্র আর বাসস্থানের জন্য সঠিক পুর্নবাসন । এটা মেখলিগঞ্জ সাবেক ছিট মহল এর ভোটবারি  অস্থায়ী ক্যাম্পের  বাসিন্দাদের বর্তমানের পরিস্থিতি । 
বুধবার থেকে বিভিন্ন দাবি দাওয়া নিয়ে মেখলিগঞ্জ  মহকুমা শাসকের অফিসের সামনে দশ দফা দাবিতে  দুপুর থেকে অনশনে বসে সাবেক ছিট মহলের বাসিন্দারা । অনশন করতে গিয়ে কয়েক জন মহিলা অসুস্থ হয়ে পড়েন । কিন্তু দাবীতে অনড় থেকে অনশন ভাঙ্গছে না কেউ। সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনা করে সমাধান না হওয়াতে বল প্রযোগের অভিযোগ উঠল । পুলিশের লাঠির ঘায়ে কয়েক জন অনশন কারী আহত হয়ে জলপাইগুড়ি সদর হাসপাতালে ভরতি ।  তাদের অভিযোগ সরকার ভারতীয় মুল ভুখন্ডে ফিরে আসার জন্য যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তা রাখতে সম্পুর্ন ব্যর্থ । তারা জানান প্রায় দেড় বছর ধরে অস্থায়ী ক্যাম্পে আছে সবাই। সেটা অত্যন্ত অস্থাথ্যকর ।ছোটো টিনের ঘড়ে এই গরমে থাকায় দুঃসাধ্য। বৃষ্টির সময় জল ঢোকে ঘরে । শীতে সাথী হয়ে হয়ে ওঠে ঘন কুয়াশার জল ।  পুর্নবাসনের জন্য যে 
অনশনের ফলে অসুস্থ এক মহিলা 
পানিশালার কাছে যে জায়গা দেখা হয়েছে সেটা তাদের অপসদন্দ। সেটা নদী ভাঙ্গন কবলিত এলাকা ।সেটা এতই প্রত্যন্ত যে  আশেপাশে  নেই বাজার, হাসপাতাল ।  শুধু থাকার সমস্যা নয় না আছে শিক্ষা স্বাস্থ্য , খাবারের পরিষেবা ঠিকঠাক । বাসিন্দাদের রোজগারের কোনো ব্যবস্থা নেই । সরকার যে রেশন দেয় তাতে তা প্রযোজনের তুলনায় অপ্রতুল ।
মহকুমা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দফায় দফায় অনশন কারীদের সাথে বসা হচ্ছে । আলোচনা মাধ্যমে সুরাহা করার চেষ্টা করা হচ্ছে । কিন্তু এবার প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলো সাবেক ছিটের বাসীদের উপর মারধোরের ।  আন্দোলন  কারীদের দাবি পুলিশের লাঠির ঘায়ে ৩০ জন আহত হয়েছে । তাদের মধ্যে ১৬ জন জলপাইগুড়ি সদর হাসপাতলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। যদিও পুলিশ প্রশাসন লাঠি চার্জ এর ঘটনা অস্বীকার করেছে । মহকুমা প্রশাসন জানায় “ কিছু অনশন কারি মহকুমাপ্রশাসক এর ঘরে ঢুকে ভাংচুর করার চেষ্টা করে । পুলিশ তাদের সরিয়েদিয়েছে।

প্রাক্তন বিধায়ক তথা ফরওয়ার্ড ব্লক নেতা পরেশ অধিকারী পুলিশের লাথি চার্জ এর ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন । তিনি বলেন “ কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের তদের প্রতিশ্রুতি পালনে ব্যর্থ । আন্দোলন কারি দের সাথে আলোচনা করে সমাধান করা দরকার ।“ বিজেপি নেতা দধিরাম রায় বলেন “ তৃনমুলের উস্কানিতেই পুলিশ লাঠি চার্জ করেছে ।“ যদিও তৃনমুল এই দাবী অস্বীকার করেছে । এলাকার বিধায়ক অর্ঘ্যরায় প্রধান বলেন “ বিজেপির উস্কানিতেই ভাংচুর চালায় আন্দোলন কারিরা । পুলিশ লাথি চার্জ করেনি । এরকম রাজনীতি করা উচিত নয় ।  “ তবে এত কিছু সত্ত্বেও অনশনে অনড় তারা ।  




No comments