Breaking News

অবহেলিত ঐতিহাসিক রাজ আমলের রেল ব্রিজ।

ঐতিহাসিক রাজ আমলের  রেল ব্রিজ। 
অর্ধ ভংগ অবস্থায় পড়ে আছে । 
মনসুর হাবিবুল্লাহ , দিনহাটা: কোচবিহার রাজাদের  আমলে গিতালদহের উপর দিয়ে ভারত বাংলাদেশ রেল যোগাযোগ শুরু হয়। কিন্তু স্বাধীনতার পরবর্তীতে দেশভাগের ফলে  স্তব্ধ  হয় প্যাসেঞ্জার ট্রেন চলাচল । যদিও আশীর দশকের প্রথম দিক অবধি মালগাড়ি চলত। কিন্তু পড়ে অজ্ঞাত কারনে সেটিও বন্ধ হয় । রেল যাতাযাতের জন্য ১৯০০ সালে গিতালদহের বুড়ী ধরলা নদীর উপর তৈরী হয় রেল ব্রীজ । যা আজও ভগ্নপ্রায় হয়ে শুধু রেল যোগাযোগের  ঐতিহাসিক  সাক্ষী হয়ে দাড়িয়ে  আছে ।  প্রতিবেশী বন্ধু রাষ্ট্র বাংলাদেশ এর সাথে এপার বাংলার আত্মার সম্পর্ক। কোচবিহারের প্রতিবেশী রংপুর রাজার সাথে দীর্ঘদিনের সুসম্পপর্ক ছিল।প্রতিবেশী দুই রাষ্ট্র এর সাথে  সেই ধারা বজায় রয়েছে এখনো । সম্প্রতি দুই রাষ্ট্রের মধ্যে বিনিময় হয়েছে ছিট মহল গুলি। নাগরিকত্ত্বের অমানবিক সমস্যা সমাধান হওয়াতে খুশী দুই দেশের মানুষ। বাংলাদেশের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নতির জন্য ত্রিপুড়া , কোলকাতা হয়ে বিভিন্ন সড়ক পথ খুলছে । বাড়ছে বাস এর সংখ্যা। কিন্তু অতীতে গিতালদহ হয়েই রেল যোগাযোগ ছিল ভারত বাংলাদেশ এর । আর ছিট মহল বিনিময় এর পর  গিতালদহ হয়ে ভারত বাংলাদেশ রেল যোগাযোগ এর পুনরায় দাবী উঠছে ।অতীতে গিতালদহ জংশং এর পরিচিতি ছিল ব্যাপক । রেলপথ থাকায় গিতালদহ তথা দিনহাটার অর্থনৈতিক অবস্থার  ছিল উন্নত। কিন্তু আজ তা শুধু ইতিহাস। ইতিহাসের পাতা থেকে জানা যায় ভারত থেকে  গিতালদহের উপর দিয়ে প্যাসেঞ্জার ট্রেন বাংলাদেশের মোগলহাট প্রবেশ করত । এর পর বাংলাদেশের পার্বতীপুর হয়ে কোলকাতা যেত প্যাসেঞ্জার  ট্রেন  ।  নিউ কোচবিহার স্টেশন হয়ে গিতালদহের উপর দিয়ে বাংলাদেশ এর উপর দিয়ে কোলকাতা যেতে সময় লাগত  প্রায়  আট ঘন্টা।এই পথ দিয়ে কলকাতা যাতাযায় করতেন কোচ বিহারের রাজকন্যা গায়েত্রীদেবী বলে নিজের আত্মজীবনীতে উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রেসিডেন্ট মহম্মদ এরসাদ  রংপুর কারমাইকেল কলেজে ভর্তীর সময় দিনহাটা থেকে রেল পথে রংপুর গিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে   রেল চলাচল বন্ধ কিন্তু গিতালদহের  মাটির উপর লোহার রেল লাইন গুলি আজও রেল চলাচলের সাক্ষ্য দিচ্ছে।ইতিহাসের স্বাক্ষী হয়ে বুড়ি ধরলা নদীর উপর আজও দাঁড়িয়ে আছে ভাঙ্গা রেল ব্রীজ টি। বাংলাদেশের সাবেক প্রেসিডেন্ট এরশাদ এবার দিনহাটায় এলে রেল ব্রীজ টি পরিদর্শনে যান । স্মৃতিবিজড়িত রেল ব্রীজ টিকে দেখে আবেগপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি । বর্তমানে  কোচবিহারের চ্যাংরাবান্ধ্যা হয়ে বাংলাদেশের বুড়ীমাড়ি প্রবেশ করা যায়। গিতালদহের রেলপথ পুনরায় চালু হলে কোচবিহারে বাংলাদেশের সাথে যোগাযোগের   নতুন বিকল্প পথ খুলবে।।  রেল যোগাযোগ চালু হলে স্থানীয় অর্থনৈতিক অবস্থার অনেক উন্নতি হবে।  বাংলাদেশ এর কোচবিহার  সীমান্ত সংলগ্ন  শহর গুলি   লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়ীগ্রামের সাথে যোগাযোগ বাড়বে। ব্যানিজ্যিক ভাবে উপকৃত হবে ভারতীয়  সীমান্তের দিনহাটা, দেওয়ানহাট,ভেটাগুড়ি শহর গুলির সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী রংপুর , লালমনিরহাট , কুড়িগ্রাম শহর গুলির । দুই দেশের আন্তঃজার্তিক সীমান্তে চোরাচালান,  অবৈধ ব্যবসার অনেকটা লাগাম দেওয়া যাবে এই পথ টি খুললে বলে স্থানীয় ব্যবসায়ী মহল মনে করে । বৈধ ভাবে ব্যবসা হলে  সরকারি কোশাগারে  রাজস্ব আদায় ও বেড়ে যাবে বহুগুন ।কৃষি নির্ভর কোচবিহারের কৃষি ভিত্তিক শিল্পের সম্ভবনা বাড়বে।কোচবিহারের কৃষি ভিত্তিক শিল্পে  বিনিয়োগের সম্ববনা বাড়বে দুই দেশের মাঝে।  কোচবিহারে উৎপন্ন কৃষি পন্য  তামাক, আলু প্রভৃতি বাংলাদেশে রপ্তানী করা যাবে । এছাড়াও বিভিন্ন ইঞ্জিনিয়ারিং  যন্ত্রাংশ, সাইকেল প্রভৃতি  রপ্তানী করা যাবে  বাংলাদেশে । বাংলাদেশ  থেকে ইলিশ মাছ, জামাকাপড় প্রভৃতি  আমদানী করা যাবে । দেশ ভাগের ফলে বিচ্ছেদ হয় এপারে অপারের আত্মীয় স্বজন , বন্ধু বান্ধবদের । রেল পথ খুললে তাদের মধ্যে  যোগাযোগ অনেক সহজ হবে ।  কোচবিহার থেকে  কোলকাতা যাওয়ার রেলপথে সময় প্রায় অর্ধেক হয়ে যাবে। কোচবিহারের অর্থনীতিতে আমুল পরিবর্তন আনবে রেল যোগাযোগ চালু হলে ।
রেল ব্রিজটির সামনে আমি । 
  স্থানীয় ব্যবসায়ী ,  বিভিন্ন গন সংগঠন রেল পথ খোলার দাবী জানায় বাংলাদেশের  সাবেক প্রেসিডেন্ট হুসেন মহম্মদ এরসাদের  কাছে। রেল যোগাযোগ  পুনরায় চালু করার দাবীর সাথে সহমত পোষন করেন তিনি ।  ছিট মহল বিনিময়ের পর গীতালদহের উপর রেল যোগাযোগ এর ব্যাপারে আশাবাদী তিনি ।  তিনি দেশ এ ফিরে রেল পথ খোলার  ব্যাপারে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এর সাথে কথা বলবেন বলে আশ্বাস দেন । রেল যোগাযোগ এর সুত্র ধরে এক হবে আবার অভিন্ন হৃদয় ?  বিবর্তনের হাত ধরে আবর্তিত হবে কোচবিহারের গৌরবোজ্জ্বল দিন গুলো ? আপাতত অপেক্ষা –উত্তর দেবে অনাগত সময়।

No comments